রিসার্স পেপার রিজেক্ট হলে পরবর্তীতে যা করবেন

Researcher thinking about rejection

আপনার পেপার রিজেক্ট হলে পরবর্তীতে যা করবেন

পেপার রিজেক্ট হয়েছে? মন খারাপ করে বসে নেই তো? ভাবছেন, জীবন শেষ, আর কখনো গবেষণা বা পাবলিশ করা হবে না?

আসলে বলতে কী, যেকোনো প্রত্যাখ্যানই কষ্ট দেয়। আমি যখন প্রথম জার্নালে পেপার সাবমিট করা শুরু করি, তখন এত রিজেকশন খেয়েছি যে এখন সেসব অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। বরং আপনি ব্যাপারটাকে পজিটিভ দৃষ্টিতে দেখার চেষ্টা করুন। প্রথমেই জেনে রাখুন, একাডেমিয়ায় পেপার রিজেক্ট হওয়া কোনো ব্যতিক্রম না, এটাই স্বাভাবিক! বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানীদের পেপারও রিজেক্ট হয়। তাই এটা নিয়ে আবেগপ্রবণ হওয়ার কিছু নেই। পেপার রিজেক্ট হলে শুরু থেকে ধাপে ধাপে কী করবেন, চলুন তা জেনে নিই:

১. কিছুক্ষণ বিরতি নিন

রিজেকশনের মেইল পড়ার সঙ্গেই সঙ্গেই কিছুক্ষণের জন্য বিরতি নিন। রিভিউয়ারদের মনে মনে গালি দেওয়া বা রাগে এডিটরকে সঙ্গে সঙ্গে মেইল করে বসার দরকার নেই। ওইদিন আর পেপারের ফাইল খুলবেন না। বরং একটু হাঁটাহাঁটি করুন, চা খান, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিন কিংবা একটু ঘুমিয়ে নিন। আবেগের বশে কোনো প্রতিক্রিয়া বা সিদ্ধান্ত নেবেন না।

২. রিজেকশনের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করুন

ডেস্ক রিজেক্ট হলে বুঝতে হবে আপনার পেপারের বিষয়বস্তু ওই জার্নালের সুযোগের (scope) মধ্যে পড়েনি, অথবা ফরম্যাটিংয়ে বড় কোনো ভুল আছে। এতে মন খারাপের কিছু নেই। শুধু অন্য একটি মানানসই জার্নাল বেছে নিন, তাদের নির্দেশিকা অনুযায়ী ফরম্যাট ঠিক করে পুনরায় সাবমিট করে দিন।
আর যদি পিয়ার রিভিউয়ের পর রিভিউয়ারদের মন্তব্যের কারণে রিজেক্ট হয়, তাহলে বুঝবেন তারা আপনার কাজটি অন্তত পড়েছেন। এটি আসলে আপনার জন্য বিনামূল্যের পরামর্শ (free consultancy)!

৩. মন্তব্যগুলো যুক্তিসঙ্গতভাবে বিশ্লেষণ করুন

১-২ দিন পরে মাথা ঠাণ্ডা করে রিভিউয়ারদের মন্তব্যগুলো পড়ুন। দেখুন তারা আসলে কী বলতে চেয়েছেন। তারা কি গবেষণা পদ্ধতিতে (Methodology) কোনো ত্রুটি ধরেছে? সাহিত্য পর্যালোচনায় (Literature Review) ফাঁক আছে বলে মন্তব্য করেছে? নাকি ফলাফল (Results) সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি? রিভিউয়াররা আপনার শত্রু নয়। তারা যা বলেছে, তা যুক্তি দিয়ে খতিয়ে দেখুন এবং পয়েন্ট আকারে লিখে রাখুন।

৪. অহংকার বাদ দিয়ে পেপার সংশোধন করুন

যে ভুলগুলো চিহ্নিত হয়েছে, অহংকার বাদ দিয়ে সেগুলো শুধরে নিন। প্রয়োজনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা (experiment) পুনরায় করুন বা নতুন তথ্য (data) যোগ করুন। মনে রাখবেন, প্রতিটি রিজেকশন আপনার পেপারের মান উন্নত করে। যে পেপারটি রিজেক্ট হয়েছে, রিভিউয়ারদের পরামর্শ মেনে সংশোধন করার পর দেখবেন তা আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী হয়েছে।

৫. নতুন জার্নালে সাবমিট করুন

সব সংশোধন শেষ? তাহলে এখন একটি নতুন জার্নাল নির্বাচন করুন। পেপারটি ওই জার্নালের ফরম্যাটে তৈরি করে সাবমিট করে দিন। আগের জার্নালের রিভিউয়ারদের মন্তব্য অনুযায়ী পেপার সংশোধিত হওয়ায় এবার গ্রহণযোগ্যতার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে।

৬. কভার লেটারে সম্পাদনার কথা উল্লেখ করুন

একটি সুন্দর কভার লেটার লিখুন, যেখানে আপনি পেপারে কী কী উন্নতি করেছেন তা পয়েন্ট আকারে উল্লেখ করুন। এটি নতুন জার্নালে প্রথম সাবমিশন হোক বা পুরোনো জার্নালে পুনঃসাবমিশন, কভার লেটারে পরিষ্কারভাবে বলে দেওয়া ভালো।
একটি মজার বিষয় হলো, আপনার পেপার যদি একই জার্নাল থেকে রিজেক্টও হয়, আপনি রিভিউয়ারদের সব মন্তব্য আমলে নিয়ে সেই জার্নালেই পুনরায় সাবমিট করতে পারেন। তবে সেটা হবে নতুন সাবমিশন হিসেবে গণ্য হবে।
আপনি যদি প্রথম ২-৩টি পেপার পাবলিশ করতে পারেন, তাহলে দেখবেন এই রিজেকশনগুলো আপনার কাছে আর কোনো বিষয়ই না।

একদম শান্ত থাকুন, ধাপে ধাপে রিজেকশন সামলান। প্র্যাকটিস করলে আর রিজেকশন ভয় হবে না।

লেখক Md. Rafsan

মো. রাফছান একজন লেখক, কলামিস্ট, সংগঠক ও গ্রাফিক্স ডিজাইনার। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্স-এর শিক্ষার্থী এবং তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, চবি-র প্রতিষ্ঠাতা ও উপদেষ্টা। সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে তরুণদের সঙ্গে কাজ করছেন। সঠিক তথ্য, সচেতনতা এবং সহযোগিতার মাধ্যমে একটি সমতা ও মানবিকতা-ভিত্তিক সমাজ গড়াই তাঁর মূল উদ্দেশ্য।

0 Comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন