ORCID ID কেন গুরুত্বপূর্ণ? ORCID ID থাকার সুবিধা কী?

ORCID ID: একজন গবেষকের ডিজিটাল পরিচয়ের বিশ্বস্ত পাসপোর্ট
ডিজিটাল আইডি ও গবেষণা

ORCID ID: একজন গবেষকের ডিজিটাল পরিচয়ের বিশ্বস্ত পাসপোর্ট

ওপেন রিসার্চার অ্যান্ড কনট্রিবিউটর আইডি – আপনার একাডেমিক পরিচয়ের স্থায়ী ঠিকানা

ORCID ID কী? একজন গবেষকের ডিজিটাল পরিচয়ের বিশ্বস্ত পাসপোর্ট। ORCID (Open Researcher and Contributor ID) হলো একটি ইউনিক ১৬ সংখ্যার ডিজিটাল আইডেন্টিফায়ার, যা একজন গবেষককে অন্য সকল গবেষকের ভিড়ে আলাদা করে চিহ্নিত করে। সহজভাবে বললে, এটি আপনার গবেষণার “ডিজিটাল এনআইডি”। একজন গবেষকের নাম একই রকম হতে পারে বা বিভিন্নভাবে লেখা হতে পারে। কিন্তু ORCID ID থাকার কারণে তার গবেষণা কাজ, প্রকাশনা এবং একাডেমিক অবদান একটি নির্দিষ্ট পরিচয়ের সাথে স্থায়ীভাবে যুক্ত থাকে।

প্রশ্ন ১: ORCID ID কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বর্তমান গবেষণা ও একাডেমিক জগতে গবেষকদের কাজ সঠিকভাবে শনাক্ত করা এবং তাদের অবদানকে যথাযথভাবে স্বীকৃতি দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ORCID ID এই কাজটিকে সহজ করে দেয়। এটি গবেষকের প্রকাশনা, গবেষণা প্রকল্প, অনুদান, পেটেন্ট, রিভিউ কার্যক্রম এবং অন্যান্য একাডেমিক অবদানকে একটি নির্দিষ্ট প্রোফাইলে সংরক্ষণ করে।

প্রশ্ন ২: একজন গবেষকের ORCID ID থাকার সুবিধা কী?

  • গবেষক হিসেবে একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পরিচয় পাওয়া যায়।
  • গবেষণা পেপার, বই অধ্যায়, কনফারেন্স প্রোসিডিংস, ডেটাসেট, পেটেন্ট—সবকিছু আপনার নামে সঠিকভাবে রেকর্ড হয়।
  • নামের বানান ভিন্নতা বা মিল থাকার কারণে গবেষণার ক্রেডিট হারানোর ঝুঁকি থাকে না।
  • বিভিন্ন গবেষণা প্ল্যাটফর্ম (Scopus, Web of Science, PubMed, CrossRef ইত্যাদি) এর সাথে সহজে লিংক করা যায়।
  • রিভিউয়ার, এডিটর বা সহগবেষকের কাছে নিজের প্রোফাইল সহজেই শেয়ার করা যায়।

এছাড়া ORCID প্রোফাইল একটি স্থায়ী এবং আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য গবেষক পরিচয়, যা ক্যারিয়ারের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একই থাকে।

প্রশ্ন ৩: ORCID ID কী কী কাজে হেল্প করবে?

  • পাবলিকেশন ট্র্যাকিং: আপনার প্রকাশিত প্রতিটি গবেষণা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ORCID প্রোফাইলে যোগ হবে।
  • ফান্ডিং অ্যাপ্লিকেশন: গবেষণা অনুদান বা স্কলারশিপের আবেদন করার সময় ORCID অনেক প্রতিষ্ঠান বাধ্যতামূলকভাবে চায়।
  • জার্নাল সাবমিশন: অনেক আন্তর্জাতিক জার্নালে পেপার সাবমিট করার সময় ORCID ID দিতে হয়।
  • গবেষণা সহযোগিতা: বিভিন্ন গবেষণা নেটওয়ার্ক (ResearchGate, Google Scholar, Academia.edu) এর সাথে একীভূত করে কাজ সহজ করা যায়।
  • স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা: আপনার কাজ এক জায়গায় লিস্টেড থাকায় পেশাদারিত্ব ও একাডেমিক ট্রাস্ট বাড়ে।

প্রশ্ন ৪: ORCID ID কি ফ্রি?

হ্যাঁ, ORCID ID সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়া যায়। শুধু রেজিস্ট্রেশন করলেই এটি আপনার হয়ে যাবে আজীবনের জন্য।

প্রশ্ন ৫: ORCID ID কোথায় ব্যবহার করা উচিত?

  • রিসার্চ পেপার সাবমিশনে।
  • কনফারেন্স রেজিস্ট্রেশনে।
  • সিভি বা রিসার্চ প্রোফাইলে।
  • ফান্ডিং বা গ্রান্ট অ্যাপ্লিকেশনে।
  • গবেষণা নেটওয়ার্ক ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রোফাইলে।

প্রশ্ন ৬: ORCID ID এবং ResearcherID/Scopus ID এর মধ্যে পার্থক্য কী?

ORCID একটি ওপেন এবং ইউনিভার্সাল আইডি, যা সব রিসার্চ প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার করা যায়। কিন্তু ResearcherID বা Scopus ID নির্দিষ্ট প্রকাশক বা ডাটাবেসভিত্তিক। ORCID এক ধরনের কেন্দ্রীয় পরিচয়, যা বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের গবেষণা তথ্যকে একত্র করে।

প্রশ্ন ৭: ORCID প্রোফাইলে কী ধরনের তথ্য যোগ করা যায়?

ORCID প্রোফাইল একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণা পরিচয়পত্রের মতো। এখানে বিভিন্ন ধরনের একাডেমিক তথ্য যুক্ত করা যায়, যেমন

  • ব্যক্তিগত তথ্য (নাম, প্রতিষ্ঠান, দেশ)।
  • শিক্ষা ও ডিগ্রি সম্পর্কিত তথ্য।
  • কর্মজীবন বা একাডেমিক অ্যাফিলিয়েশন।
  • গবেষণা প্রকাশনা (জার্নাল আর্টিকেল, বই, বই অধ্যায়)।
  • কনফারেন্স পেপার।
  • গবেষণা প্রকল্প।
  • পেটেন্ট।
  • ডেটাসেট।
  • পিয়ার রিভিউ কার্যক্রম।
  • গবেষণা অনুদান বা ফান্ডিং তথ্য।

প্রশ্ন ৮: ORCID-এর প্রধান ফিচারগুলো কী?

  • Persistent Identifier (স্থায়ী আইডেন্টিফায়ার): ORCID ID আজীবনের জন্য স্থায়ী থাকে এবং গবেষকের ক্যারিয়ারের সাথে সবসময় যুক্ত থাকে।
  • Interoperability (প্ল্যাটফর্ম ইন্টিগ্রেশন): ORCID বিভিন্ন গবেষণা ডাটাবেস ও প্ল্যাটফর্মের সাথে সংযুক্ত হয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে।
  • Auto-Update System: CrossRef, DataCite বা অন্যান্য ডাটাবেসের মাধ্যমে নতুন প্রকাশনা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ORCID প্রোফাইলে যুক্ত হতে পারে।
  • Privacy Control: গবেষক তার তথ্য Public, Limited, বা Private হিসেবে নির্ধারণ করতে পারেন।
  • Trusted Record: গবেষণার তথ্য বিভিন্ন উৎস থেকে যাচাই হয়ে যুক্ত হওয়ায় এটি একটি নির্ভরযোগ্য একাডেমিক রেকর্ড তৈরি করে।

প্রশ্ন ৯: ORCID কীভাবে গবেষণা প্রকাশনার সাথে যুক্ত হয়?

যখন একজন গবেষক জার্নালে পেপার সাবমিট করেন এবং ORCID ID যুক্ত করেন, তখন সেই প্রকাশনাটি প্রকাশিত হওয়ার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার ORCID প্রোফাইলে যুক্ত হতে পারে। এছাড়া CrossRef বা Scopus এর মতো ডাটাবেসের মাধ্যমে প্রকাশনা তথ্য আমদানি করাও সম্ভব।

প্রশ্ন ১০: ORCID ID কীভাবে তৈরি করা যায়?

ORCID ID তৈরি করার প্রক্রিয়া খুবই সহজ।

  • ORCID ওয়েবসাইটে যান।
  • Register অপশন নির্বাচন করুন।
  • নাম, ইমেইল এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন।
  • ইমেইল ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করুন, এরপরই আপনি একটি ইউনিক ১৬ সংখ্যার ORCID ID পেয়ে যাবেন।

প্রশ্ন ১১: ORCID কি শুধু গবেষকদের জন্য?

মূলত ORCID গবেষকদের জন্য তৈরি করা হলেও এটি ব্যবহার করতে পারেন

  • বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।
  • পিএইচডি ও মাস্টার্স ব্যাচেলর শিক্ষার্থী।
  • বিজ্ঞানী।
  • ডেটা রিসার্চার।
  • রিভিউয়ার।
  • এডিটর।
  • গবেষণা সহকারী।

অর্থাৎ যেকোনো ব্যক্তি, যিনি গবেষণা বা একাডেমিক কাজে যুক্ত।

বর্তমান গবেষণা জগতে ORCID ID শুধু একটি আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার নয়, বরং আপনার একাডেমিক পরিচয়ের বিশ্বস্ত পাসপোর্ট। গবেষণায় স্বচ্ছতা, ক্রেডিট এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে প্রতিটি গবেষকের ORCID ID তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি ছোট ডিজিটাল আইডি আপনার গবেষণা ক্যারিয়ারকে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ও সুসংগঠিত করে তুলতে পারে।

লেখক Md. Rafsan

মো. রাফছান একজন লেখক, কলামিস্ট, সংগঠক ও গ্রাফিক্স ডিজাইনার। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্স-এর শিক্ষার্থী এবং তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, চবি-র প্রতিষ্ঠাতা ও উপদেষ্টা। সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে তরুণদের সঙ্গে কাজ করছেন। সঠিক তথ্য, সচেতনতা এবং সহযোগিতার মাধ্যমে একটি সমতা ও মানবিকতা-ভিত্তিক সমাজ গড়াই তাঁর মূল উদ্দেশ্য।

0 Comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন