করোনা মহামারি: জীবন-জীবিকার সংকট ও প্রতিকার
মহামারির ছায়ায় বিপর্যস্ত অর্থনীতি, সমাজ ও মানবিক বিবেকের নির্মোচন
আতঙ্ক, মহামারি, অবরুদ্ধ চারপাশে আটকে গেছে ধ্বংশালী মানবতা। সাড়ে তিন হাত দূরের এই বিশেষণ তল কি ভীষণভাবেই না আগলে ধরছে মৃত লাশ। অজানা আতঙ্কে আকস্মাৎ থমকে গেছে জনতা, ঘরবন্ধি হয়েছে কোটি কোটি শ্রমবাহিনী শরীর। কি এক নিদারুণ পরিস্থিতির সামনে দাঁড়িয়ে আমরা, ভবিষ্যৎ নয় চারদিকে শুধু বেঁচে থাকার হাপিত্যেস!
মহামারির প্রকোপ ও টিকাকরণ
আইসিও নেই, ভালো চিকিৎসক নেই, ভালো হাসপাতাল নেই, উন্নত চিকিৎসার জন্য সাধারণের নেই প্রয়োজনীয় অর্থ। এরকম হাজার নাই এর মধ্য দিয়ে দ্রুতবেগে এগিয়ে চলছে করোনায় মৃত্যুর মিছিল। উত্তর আমেরিকার দেশগুলোতে রোগাক্রান্ত ও মৃত্যুর হার কমে এলেও এই মহামারি এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোতে দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। সাস্থ অধিদপ্তের তথ্যানুযায়ী, ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় ৫৮ লক্ষ মানুষ করোনার প্রথম ডোজের টিকা নিয়েছেন। দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন প্রায় সাড়ে ২১ লাখ মানুষ।
দীর্ঘমেয়ী লকডাউন ও বিধিনিষেধ
করোনার ভয়াবহতায় গত বছরের ২৬শে মার্চ থেকেই দেশে আনুষ্ঠানিক লকডাউনের শুরু। করোনার প্রকোপে বারংবার লকডাউন দেওয়া এবং তুলে নেওয়ার মাঝেই পেরিয়ে গেছে পুরো ১ টি বছর। অস্থিতিশিল অবস্থা মোকাবেলায় করোনার বিস্তার কমাতে ১৪ই এপ্রিল থেকে পুনরায় ঘোষণা করা হয়েছে সাত দিনের 'কঠোর লকডাউন'। মন্ত্রীপরিষদের এক প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী লকডাউন তথা বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে আগামী ১৬ মে মধ্যরাত পর্যন্ত। এই সময় বন্ধ থাকবে আন্তঃজেলা বাস, ট্রেন, লঞ্চও।
অর্থনৈতিক সংকট ও দারিদ্র্যবৃদ্ধি
সবকিছু উপেক্ষা করে একপ্রকার বাধ্য হয়েই পেটের দ্বায়ে জীবন হাতে নিয়ে জনশূন্য শহরের এদিক ওদিক ছুটছে একদল খেটে খাওয়া সাধারন মানুষ। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির নতুন প্রতিবেদন অনুযায়ী করোনাভাইরাস সৃষ্ট লকডাউনের কারণে ২০২০ সালের সর্বশেষ নাগাদ নিম্ন-আয় ও মধ্য-আয়ের দেশের প্রায় ২৬ কোটি ৫০ লক্ষ মানুষ তীব্র খাদ্যাভাবের মুখোমুখি হয়েছে। ব্র্যাকের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, করোনা মহামারী কারণে বাংলাদেশের প্রায় ৩৬ শতাংশ মানুষ চাকরি হারিয়েছেন। মহামারির এই অস্থিতিশীলতায় অতি দারিদ্র্য বেড়েছে প্রায় ৬০ শতাংশ।
সরকারের প্রণোদনা ও পুনরুদ্ধার
করোনাভাইরাসের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠতে ইতিমধ্যেই ৭২ হাজার কোটি টাকারও বেশি আর্থিক প্রণোদনার প্যাকেজ ঘোষণা করেছে বর্তমান সরকার। যার মধ্যে শিল্প ঋণের জন্য বরাদ্ধ করা হয়েছে ৩০ হাজার কোটি টাকা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ২০ হাজার কোটি, রপ্তানিমুখর শিল্পের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে বরাদ্ধ হয়েছে ৫ হাজার কোটি টাকা। করোনাভাইরাস মোকাবেলায় স্বাস্থ্যখাতে অতিরিক্ত ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
সামাজিক পরিবর্তন ও মানবতা
মৃত্যুবাণে দুর্বার প্রতাপে এগিয়ে চলা করোনাকে থামানো যাচ্ছেনা কোনো ক্রমেই। অনিঃশেষ ধেয়ে চলা এই করোনার আজ পৃথিবীময় রাজত্ব। অপন রক্ত ছেড়ে যাচ্ছে আপন হৃদয়, পাশে থেকেও বাড়ছে কাছে থাকার দূরত্ব। আরও একবার স্রষ্টায় বিশ্বাসের প্রয়োজনবোধ জন্মেছে বর্বর, স্বার্থপরায়ণ মানব হৃদয়ে। বর্ণবিদ্বেষ ভুলে সকল ধর্মের মানুষ করোনা মোকাবেলায় একজোট হয়েছে, যার ইতিবাচক ফলাফলে ক্ষণেক্ষণে মানুষে মানুষে তৈরী হচ্ছে অসাম্প্রদায়িকতার কিছু অনন্য উদাহরণ।
0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন