বৈশ্বিক মহামারি করোনায় বিপাকে খেটে খাওয়া চাকুরিচ্যুত সাধারণ মানুষ

সেয়ার: 0
করোনা মহামারি

করোনা মহামারি: জীবন-জীবিকার সংকট ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়

মানবতার ধ্বংস, অর্থনীতির ধস এবং সরকারের প্রণোদনা ও সামাজিক বাস্তবতা

আতঙ্ক, মহামারি, অবরুদ্ধ চারপাশে আটকে গেছে ধ্বংশালী মানবতা। সাড়ে তিন হাত দূরের এই বিশেষণ তল কি ভীষণভাবেই না আগলে ধরছে মৃত লাশ। অজানা আতঙ্কে আকস্মাৎ থমকে গেছে জনতা, ঘরবন্ধি হয়েছে কোটি কোটি শ্রমবাহিনী শরীর। কি এক নিদারুণ পরিস্থিতির সামনে দাঁড়িয়ে আমরা, ভবিষ্যৎ নয় চারদিকে শুধু বেঁচে থাকার হাপিত্যেস! আইসিও নেই, ভালো চিকিৎসক নেই, ভালো হাসপাতাল নেই, উন্নত চিকিৎসার জন্য নেই প্রয়োজনীয় অর্থ।

করোনাকালীন লকডাউন ও বর্তমান পরিস্থিতি

করোনার ভয়াবহতায় গত বছরের ২৬শে মার্চ থেকেই দেশে আনুষ্ঠানিক লকডাউনের শুরু, সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল ১৭ই মার্চ ২০২০ থেকে। অস্থিতিশিল অবস্থা মোকাবেলায় করোনার বিস্তার কমাতে ১৪ই এপ্রিল থেকে পুনরায় ঘোষণা করা হয়েছে সাত দিনের 'কঠোর লকডাউন'। উত্তর আমেরিকার দেশগুলোতে রোগাক্রান্ত ও মৃত্যুর হার কমে এলেও এই মহামারি এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোতে দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। বর্তমানে ভারতের দিল্লীতে করোনা মহামারীর প্রকোপে প্রতিদিনই প্রাণ হারাচ্ছে ২ হাজারেও বেশি মানুষ।

খেটে খাওয়া মানুষের দুর্বিষহ জীবনযাপন

দীর্ঘসময় ধরে চলমান এই কঠোর লকডাউনে বিপাকে দেশের খেটে খাওয়া সাধারন মানুষ। অর্থিক দৈন্যদশা আর প্রয়োজনীয় খাবারের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন দেশের বিভিন্ন অংশের এই চাকুরিচ্যুত, খেটে খাওয়া প্রান্তিক জনগন। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির নতুন প্রতিবেদন অনুযায়ী করোনাভাইরাস সৃষ্ট লকডাউনের কারণে ২০২০ সালের শেষ নাগাদ নিম্ন-আয় ও মধ্য-আয়ের দেশের প্রায় ২৬ কোটি ৫০ লক্ষ মানুষ তীব্র খাদ্যাভাবের মুখোমুখি হয়েছে।

অর্থনীতির ধস ও বাড়তি দারিদ্র্য

জীবন-জীবিকা পরিচালনার এই কঠিন প্রশ্নে পিছলে গিয়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতির ভীত। করোনা সংকটের পূর্বে ৭.৫-৮% জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ এগুচ্ছিল ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে। কিন্তু সম্প্রতি ব্র্যাকের একটি জরিপে বলা হয়েছে, মহামারির এই অস্থিতিশীলতায় অতি দারিদ্র্য বেড়েছে প্রায় ৬০ শতাংশ। অর্থাৎ, লকডাউনের পর দেশে অতি দারিদ্র্য সীমার নিচে নেমেছে প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষ।

সরকারের প্রণোদনা ও প্রতিকার

করোনাভাইরাসের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠতে ইতিমধ্যেই ৭২ হাজার কোটি টাকারও বেশি আর্থিক প্রণোদনার প্যাকেজ ঘোষণা করেছে বর্তমান সরকার। যার মধ্যে শিল্প ঋণের জন্য বরাদ্ধ করা হয়েছে ৩০ হাজার কোটি টাকা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ২০ হাজার কোটি। তথাপিও অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় স্বাস্থ সুরক্ষা নিশ্চিত করার শর্তে গার্মেন্টস, শিল্প খুলা রেখে ভঙ্গুর অর্থনীতির বেহাল অবস্থা দূরীকরণে পুরোদমে কাজ করছে সরকার।

করোনায় আতঙ্কিত নয়, সতর্ক হওয়া প্রয়োজন আমাদের করণীয় কর্মকান্ডে, কর্তব্যে, প্রয়োজনে। করোনার এই ক্রান্তিপর্বে ডানা মেলুক বেঁচে থাকার নতুন কোন দুর্বোধ্য সমীকরণ। বিবেকের আইসিউতে আরও একবার পরিশুদ্ধ হোক কৃষ্ঞকায় নষ্ট হৃদয়। লকডাউনের এই দুর্বিষহ করুণ সময় নতুন করে জানতে শিখাক প্রয়োজনবোধ, শিখিয়ে দিক অস্থিতিশীল জুরুরী দূরাবস্থায় টিকে থাকার কোন অভাবনীয় কলাকৌশল। দুঃসময় পেরিয়ে বেঁচে থাকুক নির্বিবাদী, সত্যনিষ্ঠ অসহায় প্রতিবেশী সমাজ।

লেখক Md. Rafsan

মো. রাফছান একজন লেখক, কলামিস্ট, সংগঠক ও গ্রাফিক্স ডিজাইনার। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্স-এর শিক্ষার্থী এবং তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, চবি-র প্রতিষ্ঠাতা ও উপদেষ্টা। সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে তরুণদের সঙ্গে কাজ করছেন। সঠিক তথ্য, সচেতনতা এবং সহযোগিতার মাধ্যমে একটি সমতা ও মানবিকতা-ভিত্তিক সমাজ গড়াই তাঁর মূল উদ্দেশ্য।

0 Comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন