বাংলাদেশের ইতিহাস ও সমসাময়িক ভাবনা

সেয়ার: 0
ইতিহাস বদলানোর ইতিহাস

ইতিহাস বদলানোর ইতিহাস: বাংলাদেশের বাস্তবতা

ক্ষমতার দমননীতি ও সত্যের খোঁজে একটি বিশ্লেষণ

কেবলই টুইস্টেড ইতিহাস ছাড়া বাংলাদেশে খুব বেশি পিউর ইতিহাসই নাই। এখানে ক্ষমতা এতটাই প্রবল যে, যারা ক্ষমতায় আসে তারাই ইতিহাস তৈরী করে, ইতিহাস বদলাইয়া দেয়, অন্যজনের ইতিহাস মুইছা দিয়ে নতুন করে নিজেদের ইতিহাস লিখে। ইতিহাস বদলায়ে দেওয়ার ইতিহাস এই দেশে দারুণ জনপ্রিয়, বহুল প্রচলিত।

অসুস্থ প্রতিযোগিতা

প্রতিপক্ষকে একেবারে আউটপ্লে করে দিয়ে বাস্তবতা কিংবা খাতা কলমের সব যায়গা থেকে মুছে দেওয়ার একটা অসুস্থ প্রতিযোগিতা কয়েক যুগ ধরে দেশে চলতেছে। তার ব্যাপারে কারো কোনো ভ্রুক্ষেপ নাই, কোনো হাপিত্যেশ নাই, কোনো জ্বালা-পোড়া নাই।

শিক্ষা ও সমাজ ব্যবস্থা

এই দেশে ছোট বেলায়, বাবা ছেলেরে বলে, "তুই যে মাইর খাইলি, কয়টা মাইর তুই ওরে ফিরাইয়া দিছস?" এখানে ছোট্ট ছেলেকে শেখানো হয়, "পরেরবার মেরে সাইজ করে দিবি, মেরে ভুত করে দিবি।" এটা আমাদের সমাজের একটি কুসংস্কার যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দেয়।

প্রতিপক্ষের বাস্তবতা

অথচ বাস্তবতা ভিন্ন, আপনার যে প্রতিপক্ষ, আপনার যে শত্রু, সেও আপনার মতই মানুষ, একই স্রষ্টার সৃষ্টি, হয়তো আপনার আশেপাশেই সে থাকে। খাতা কলম, বাস্তবতার সবকিছু থেকে মুইছা দিয়েও আপনি তারে পুরোপুরিভাবে আউটপ্লে কইরা দিতে পারবেন না। বাস্তবিক অর্থে এটা অসুন্দর, অমানবিক, অপ্রয়োজনীয়।

বাঙালির মানসিকতা

আমাদের বাঙালিদের সমস্যা এখানেই, আমরা প্রতিপক্ষকে সবকিছু থেকেই বাদ দিয়া দিতে চাই, প্রবলভাবে, অনর্থক কিংবা জোরপূর্বক। আমরা আসলে কোনোভাবেই নিজেদের পরাজয় মাইনা নিতে চাইনা, সত্যটা প্রকাশ করতে চাই না। অথচ, সত্যটা সত্যই, সেটা আপনি জয়ী হলেও, বা পরাজিত হলেও।

ক্ষমতার পালা বদল

দমননীতির মাধ্যমে আজ আরেকজনের ইতিহাস আপনি পাল্টায়ে দিলে, কাল অন্য আরেকজন আপনার ইতিহাস পাল্টায়ে দিবে। গত কয়েক দশক ধরে, এমনটাই চলছে আমাদের দেশে। এজন্যই দেখবেন, একদল ক্ষমতায় থাকলে অন্যদল নিজেদের বাড়িতে পর্যন্ত থাকতে পারে না।

লেখক Md. Rafsan

মো. রাফছান একজন লেখক, কলামিস্ট, সংগঠক ও গ্রাফিক্স ডিজাইনার। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্স-এর শিক্ষার্থী এবং তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, চবি-র প্রতিষ্ঠাতা ও উপদেষ্টা। সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে তরুণদের সঙ্গে কাজ করছেন। সঠিক তথ্য, সচেতনতা এবং সহযোগিতার মাধ্যমে একটি সমতা ও মানবিকতা-ভিত্তিক সমাজ গড়াই তাঁর মূল উদ্দেশ্য।

0 Comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন