নতুন লেখকদের জন্য লেখালেখির পথে প্রথম পদক্ষেপ
চিঠি ও কলাম লেখার সহজ কৌশল, নিয়মাবলী এবং পত্রিকায় প্রকাশের সম্পূর্ণ গাইডলাইন
আস্সালামু আলাইকুম, শুভ সময়, আশাকরি সবাই সুস্থ আছেন, ভালো আছেন। যারা নতুন লেখালেখি শুরু করবেন তাদের ক্ষেত্রে আমার কিছু পরামর্শ সহজ ভাষায় নিচে উপস্থাপন করছি। আপনার পছন্দের যেকোনো বিষয়ে লেখালেখি শুরু করে দিন। সেটা চিঠি, বাংলাদেশ বিষয়াবলী, সমসাময়িক কিংবা আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট যেকোনোটাই হতে পারে। তবে, প্রথম দিকে আপনারা গ্রাম, জেলা, দেশ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে চিঠি লিখতে পারেন।
🔵 চিঠি লেখার নিয়ম
- আকর্ষণীয় শিরোনাম দেওয়া।
- স্বল্প শব্দে মূল ঘটনা ব্যাখ্যা করা।
- বানান ভুল এড়িয়ে চলা।
- সম্পূর্ণ লেখা একই পেরায় লেখা।
- শব্দ সংখ্যা ১০০-১৫০ এর আশেপাশে রাখা।
চিঠি লেখা চলমান থাকলে একটা নির্দিষ্ট সময় পর আপনি কলাম লিখতে পারবেন। তবে প্রথমে অবশ্যই ১৫-২০ দিন নিয়মিত পত্রিকা ও কলাম পড়তে হবে।
🔴 কলাম লেখার নিয়ম... (বিশেষ করে বাংলাদেশ বিষয়াবলী)
- পুরো লেখার উপর ভিত্তি করে আকর্ষণীয় শিরোনাম দিতে হবে।
- ১০০-১৫০ শব্দে ভূমিকা লিখতে হবে।
- ১০০-১৫০ শব্দে নতুন পেরায় যুক্তিযুক্ত ও সঠিক কারণগুলো ব্যাখ্যা করতে হবে।
- ১৫০-২০০ শব্দে আরেকটা নতুন পেরায় পুরো বিষয়টি বিশ্লেষণ করতে হবে। লেখা বেশি হলে প্রয়োজনে একাধিক পেরা করতে পারেন।
- ১৫০-২০০ শব্দে সমস্যাটির কারণে সৃষ্ট প্রতিক্রিয়া বা ক্ষয়ক্ষতি বিশ্লেষণ করতে হবে।
- ১০০-১৫০ শব্দে সমস্যার সম্ভাব্য সহজ সমাধান এবং প্রস্তাবনা তুলে ধরতে হবে।
- ৮০-১০০ শব্দে পুরো বিষয়টি উপসংহার অংশে উপস্থাপন করতে হবে।
🔴 এছাড়াও চিঠি কিংবা কলামের উভয়ক্ষেত্রে যা মানতে হবে
- পত্রিকা ভেদে কলামে শব্দ সংখ্যা ৫৫০-৭০০ বা ৮০০-১০০০ বা ততোধিক হতে পারে।
- কলামে অবশ্যই সঠিক যুক্তি ও সর্বশেষ হালনাগাদকৃত তথ্য উপস্থাপন করতে হবে।
- পত্রিকায় সকাল ৯-১১ টার মধ্যেই লেখা পাঠাতে হবে।
- একটি পত্রিকায় লেখা পাঠানোর পর ৩-৪ দিন বা সর্বোচ্চ ১ সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
- রাষ্ট্র কিংবা সরকার বিরোধী বা কাউকে ব্যক্তিগত ভাবে আক্রমণ করে কোনো লেখা প্রস্তুত করা যাবে না।
- কপি পেস্ট করা যাবে না। অন্যের লেখা নিজের নামে চালিয়ে দেওয়া যাবে না।
- লেখা প্রস্তুত করার পর জোরে জোরে ৫-৬ বার পড়তে হবে।
- লেখা পাঠানোর পূর্বে অভিজ্ঞ কয়েকজনকে দিয়ে দেখিয়ে নিতে হবে।
বিশেষ টিপ: টপিক অনুসারে আপনার লেখার মাঝের অংশের কারণ, বিশ্লেষণ এবং সমাধানে আংশিক পরিবর্তন করা হলেও বেশির ভাগ ইস্যু নিয়ে আপনি এই একই ফর্মেটে লেখা প্রস্তুত করতে পারবেন।
🔷 সর্বশেষে আরও কিছু পরামর্শ
- লেখালেখির ক্ষেত্রে পূর্বের পেরার সাথে পরের পেরার যেন অবশ্যই স্বমন্বয় থাকে।
- যতি চিহ্ন, বানান ভুল এবং স্বমন্বয়হীনতার মত বিষয়গুলোতে বিশেষ নজর রাখবেন। বানান ভুল কিংবা স্বমন্বয়হীন লেখা পত্রিকায় ছাপানোর সম্ভবনা খুবই কম।
- যত শব্দেই লিখেন, লক্ষ রাখবেন আপনি পুরো বিষয়টাকে পুরোপুরি বুঝাতে পেরেছেন কিনা।
- পত্রিকায় লেখালেখিতে উন্নতি করতে নিয়মিত পত্রিকা, কলাম, বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই।
লেখার ভুল ত্রুটি এড়াতে তত্বাবধায়ককে লেখা পড়তে দিবেন। তিনি লেখা পড়ে ঠিকঠাক করে আপনাকে পাঠানোর পর, কোথায় কি সমস্যা হলো তা জেনে নিয়ে পরবর্তি লেখায় এই একই ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন। তারপর সঠিক নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট মেইলে আপনার লেখাটি সময় মত পাঠিয়ে দিবেন।
🔴 পত্রিকায় লেখা পাঠানোর নিয়ম
নতুন মেইল ওপেন করে যে পত্রিকায় পাঠাবেন ঐ পত্রিকার ইমেইল দিবেন। কম্পোজ অপশনে পুরো লেখাটি কপি করে পেস্ট করবেন।
- শিরোনাম
- পুরো লেখাটি এখানে দিবেন।
- নাম :
- শিক্ষার্থী পরিচয় :
- সাংগঠনিক পরিচয় :
- মোবাইল নম্বর :
- অবশ্যই আপনার একটা ফর্মাল ছবি এটাচ করবেন।
🔴 পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে কিনা দেখতে...
- নির্দিষ্ট পত্রিকার নামের পূর্বে 'ই' লিখে (যেমনঃ ই ইত্তেফাক) গুগল সার্চ করলে আপনি ঐ পত্রিকার ইপেপারের লিংক পাবেন।
- সেখান থেকে ঐ পত্রিকার সম্পাদকীয়, উপসম্পাদকীয়, মতামত, মুক্তমত, পাঠক মত, তরুণ প্রজন্মের ভাবনা ইত্যাদি পৃষ্ঠাগুলো থেকে আপনার লেখাটি খুঁজে বের করে ডাউনলোড করে নিবেন।
0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন