সময় থাকতেই পরিবারমুখী হোন

সেয়ার: 0
আধুনিকতার বেড়াজালে পরিবার ও শূন্যতা

আধুনিকতার বেড়াজালে পরিবার ও শূন্যতা

কর্পোরেট জীবনের ব্যস্ততায় হারিয়ে যাওয়া মানুষগুলো

পদ-পদবি, অর্থ সম্মান আর আধুনিকতার বেড়াজালে কেমন বাঁধাধরা কর্পোরেট জীবন আমাদের! প্রতিষ্ঠিত হওয়ার নামে পরিবার ছাড়া কত অবলিলায় আমরা আজকাল বেছে নিচ্ছি দীর্ঘতম দূরত্ব, নির্বাসনের জীবন। কর্মব্যস্ততার অযুহাতে মহামারির মত আলাদা হয়ে যাচ্ছি আমরা, নিজেদের মধ্যে তৈরি করে নিচ্ছি আকাশ পাতালের দূরত্ব।

অর্থের বিনিময়ে হারানো সময়

মাস যায়, বছর যায়, বাবা ছেলেকে দেখে না, মা দেখে না মেয়েকে। লাখ টাকা কামাই করে বাড়ি পাঠানো দুর্ভাগা বাবা দেখে না প্রিয় সন্তানের একটু একটু করে বড় হয়ে ওঠা, তার প্রথম কথা বলা, তার প্রথম স্কুল। আহা, কেমন অদ্ভুত বদ নসিব এই সমাজের, এই সমাজের মানুষের। অথচ, আমাদের যাপিত জীবনে এই মানুষগুলোকে আমাদের উঠতে বসতে কত হাজার বার দরকার, কত শত কোটিবার দরকার কারণে-অকারণে!

বঞ্চনার দৈনন্দিন জীবন

আজকাল ঘুম থেকে উঠে বরাবরের মতো বাবার শাসন, মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয় কোটিকোটি মানুষ, নিয়ম করে নিজের ভাই, বোন আর দাদা-দাদির মুখ দেখে না আরও কত হাজার জন। তারা না পায় পরিবারের শাসনবারণ, না পায় ভালো থাকার ছোট-বড় উপলক্ষ। যান্ত্রিকতার এই আধুনিক যুগে পরিবার নিয়ে একসাথে, এক টেবিলে মানুষ খেতে বসে না এক কোটি বছর।

অর্থপ্রবৃত্তি ও প্রতিযোগিতা

পরিবার বাড়িতে ফেলে আমরা পাগলের মতো ছুটি। অফিসে, চাকুরিতে, প্রতিনিয়তই আমাদের তাড়া করে বেড়ায় অর্থচিন্তা, বড় হওয়ার দম্ভ, ভালো থাকার, ভালো রাখার অনর্থক, অপ্রয়োজনীয় প্রতিযোগিতা। অথচ, যে শূন্যতা আমরা নিজেরাই তৈরি করি, যে দূরত্ব বরণ করি স্বেচ্ছায়, অর্থপ্রবৃত্তির আরাম-আয়েশে সেই ক্ষত সারে কখনও? সারে না, কখনোই সারে না।

জীবনের বাস্তব সত্য

এই অবহেলা, এই দূরত্ব, এই বঞ্চনা আমাদের সবার জীবনেই ম্যাটার করে, দাগ কাটে ভীষণ খারাপভাবে। এই সত্য একটু খেয়াল করলেই আপনি দেখবেন, যদি আপনার সময় থাকে, যদি দেখার চোখ থাকে। তাই, সময় থাকতেই পরিবারমুখী হন, প্রিয়জনদের দিন পর্যাপ্ত সময়।

দিনশেষে পরিবার আর আপন রক্ত ছাড়া এখানে কোনো কিছুই আসলে খুব বেশি ম্যাটার করে না। সময় থাকতে পরিবারের পাশে থাকুন।

লেখক Md. Rafsan

মো. রাফছান একজন লেখক, কলামিস্ট, সংগঠক ও গ্রাফিক্স ডিজাইনার। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্স-এর শিক্ষার্থী এবং তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, চবি-র প্রতিষ্ঠাতা ও উপদেষ্টা। সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে তরুণদের সঙ্গে কাজ করছেন। সঠিক তথ্য, সচেতনতা এবং সহযোগিতার মাধ্যমে একটি সমতা ও মানবিকতা-ভিত্তিক সমাজ গড়াই তাঁর মূল উদ্দেশ্য।

0 Comments:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন