পদ-পদবি, অর্থ সম্মান আর আধুনিকতার বেড়াজালে কেমন বাঁধাধরা কর্পোরেট জীবন আমাদের! প্রতিষ্ঠিত হওয়ার নামে পরিবার ছাইড়া কত অবলিলায় আমরা আজকাল বাইছা নিতেছি দীর্ঘতম দূরত্ব, নির্বাসনের জীবন। কর্মব্যস্ততার অযুহাতে মহামারির মত আলাদা হয়ে যাইতেছি আমরা, নিজেদের মধ্যে তৈরী করে নিতেছি আকাশ পাতালের দূরত্ব।
মাস যায়, বছর যায়, বাবা ছেলেরে দেখেনা, মা দেখেনা মেয়েরে। লাখ টাকা কামাই করে বাড়ি পাঠানো দুর্ভাগা বাবা দেখেনা প্রিয় সন্তানের একটু একটু করে বড় হয়ে ওঠা, তার প্রথম কথা বলা, তার প্রথম স্কুল। আহা, কেমন অদ্ভুত বদ নসিব এই সমাজের, এই সমাজের মানুষের। অথচ, আমাদের যাপিত জীবনে এই মানুষগুলোরে আমাদের উঠতে বসতে কত হাজার বার দরকার, কত শত কোটিবার দরকার কারণে-অকারণে!
আজকাল ঘুম থেকে উঠে বরাবরের মতন বাবার শাসন, মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয় কোটিকোটি মানুষ, নিয়ম করে নিজের ভাই, বোন আর দাদা-দাদির মুখ দেখে না আরও কত হাজার জন। তারা না পায় পরিবারের শাসনবারণ, না পায় ভালো থাকার ছোট-বড় উপলক্ষ। যান্ত্রিকতার এই আধুনিক যুগে পরিবার নিয়া একসাথে, এক টেবিলে মানুষ খাইতে বসে না এক কোটি বছর।
পরিবার বাড়িতে ফেইলা আমরা পাগলের মত ছুটি, অফিসে, চাকুরিতে, প্রতিনিয়তই আমাদের তাড়া করে বেড়ায় অর্থচিন্তা, বড় হওয়ার দম্ভ, ভালো থাকার, ভালো রাখার অনর্থক, অপ্রয়োজনীয় প্রতিযোগিতা। অথচ, যে শূন্যতা আমরা নিজেরাই তৈরী করি, যে দূরত্ব বরণ করি সেচ্ছায়, অর্থপ্রবৃত্তির আরাম-আয়েশে সেই ক্ষত সারে কখনও? সারেনা, কখনোই সারে না।
এই অবহেলা, এই দূরত্ব, এই বঞ্চনা আমাদের সবার জীবনেই ম্যাটার করে, দাগ কাটে ভীষণ বাজে ভাবে। এই সত্য একটু খেয়াল করলেই আপনি দেখবেন, যদি আপনার সময় হয়, যদি দেখার চোঁখ থাকে। তাই, সময় থাকতেই পরিবারমুখী হন, প্রিয়জনদের দেন পর্যাপ্ত সময়। দিনশেষে পরিবার আর আপন রক্ত ছাড়া এখানে কোনো কিছুই আসলে খুব বেশি ম্যাচটার করে না।

0 Comments:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন